🏷️ বরিশাল

পটুয়াখালী-৩ আসনে জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ

📍 : আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী

| 📅 25 December, 2025, 6:56 pm

0Shares

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-৩ আসনে গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সমীকরণ। একদিকে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে এই আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা সব মিলিয়ে আসনটিতে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অধ্যাপক মু. শাহ আলম মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় নির্বাচনী মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ফলে বিএনপি-সমর্থিত শরিক দলের প্রার্থী নুরুল হক নুর, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন এবং জামায়াত মনোনীত অধ্যাপক মু. শাহ আলম এই তিন প্রার্থীকে কেন্দ্র করে গলাচিপা ও দশমিনাজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা তুঙ্গে উঠেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলীয়ভাবে নুরুল হক নুরকে ছাড় দেওয়া হলেও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির একটি শক্তিশালী অংশ হাসান মামুনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এতে জাতীয়তাবাদী ভোটব্যাংক বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই বিভাজনের সুযোগে তুলনামূলকভাবে লাভবান হতে পারেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মু. শাহ আলম এমনটাই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।

দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থাকা অধ্যাপক মু. শাহ আলম এলাকায় একজন পরিচিত মুখ। পাশাপাশি সংগঠনের নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় তাঁর একটি নিজস্ব ভোটব্যাংকও রয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীদের ভাষ্য, বিএনপির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং শরিক দলের প্রার্থীকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যেই জামায়াত প্রার্থী ধীরে ধীরে সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যেতে পারেন।

তবে এখানেই শেষ নয়। ইসলামপন্থী আটদলীয় জোট থেকে শেষ পর্যন্ত যদি জামায়াতে ইসলামীর বাইরে অন্য কোনো দলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে বিদ্যমান সমীকরণ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জামায়াতের জন্য তৈরি হওয়া সম্ভাব্য সুযোগের জানালা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও মত স্থানীয়দের।

এদিকে একই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে মাওলানা মুফতি আবু বকর সিদ্দীক মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করায় ভোটের অঙ্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গলাচিপা ও দশমিনা এই দুই উপজেলাজুড়েই এখন নির্বাচনী আলোচনা সর্বত্র। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কার্যালয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবখানেই সম্ভাব্য প্রার্থী ও জোটের সমীকরণ নিয়ে চলছে আলোচনা। মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা, একই সঙ্গে প্রস্তুতি নিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকেরাও।

সব মিলিয়ে পটুয়াখালী-৩ আসনে এবার ত্রিমুখী লড়াইয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঘটনের সম্ভাবনাও একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।