🏷️ বরিশাল

পটুয়াখালীতে দোকানে তালা, বিএনপি নেতা–ব্যবসায়ীর পাল্টাপাল্টি দাবি

📍 : আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী

| 📅 27 December, 2025, 8:34 pm

0Shares

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে এক ব্যবসায়ীর দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির নেতা শাহিন গাজী ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতার কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন।

অভিযোগকারী তৌহিদুল ইসলাম (৫৮) পটুয়াখালী শহরের কলাতলা হাউজিং স্টেট এলাকার বাসিন্দা। তিনি নিজ বাড়ির পাশের জমিতে সম্প্রতি একটি দোকান নির্মাণ করেন। তৌহিদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস–বি রোগে আক্রান্ত এবং চিকিৎসার জন্য গত ২০ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন।

তিনি জানান, বুধবার বেলা ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে শাহিন গাজী তাঁর মোবাইল ফোনে কল করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশগ্রহণের যাতায়াত ব্যয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। অসুস্থতার কথা জানিয়ে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাহিন গাজী তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফোন কেটে দেন। এর পরদিন শুক্রবার তাঁর দোকানে তালা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তৌহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না। এরপরও আগেও একই ব্যক্তিরা তাঁকে আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে দোকানে তালা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর বিএনপির উপদেষ্টা কমিটির নেতা শাহিন গাজী বলেন, তৌহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থীদের আশ্রয় দেওয়া, বৈঠকের আয়োজন এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। সে কারণেই তাঁর দোকানে তালা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং এলাকার অনেকের সঙ্গে এখনো পরিচিত নন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়া কারও দোকানে তালা দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের বিষয়ে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।